সমুদ্রস্রোত

- সাধারণ বিজ্ঞান - জীব বিজ্ঞান | NCTB BOOK
3.7k

সমুদ্র স্রোত (Ocean Current)

পৃথিবীর আবর্তন, নিয়ত বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্র জলের লবণত্ব, ঘনত্ব ও উষ্ণতার পাথর্য্যের জন্য সমুদ্রের জল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়মিতভাবে সারাবছর নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত হয়। সমুদ্র জলের এই গতিকে সমুদ্রস্রোত (Ocean Current) বলে।

সমুদ্রস্রোত উৎপত্তির কারণ

১) বায়ুপ্রবাহ: বায়ুপ্রবাহ সমুদ্র স্রোতের প্রধান কারণ।

২) উষ্ণতার তারতম্য

৩) লবণাক্ততার তারতম্য

৪) বাষ্পীভবনের তারতম্য

৫) গভীরতার তারতম্য

৬) পৃথিবীর আবর্তন

৭) স্থলভাগের অবস্থান।

সমুদ্রস্রোত বেঁকে যাওয়ার কারণ

পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে আবর্তন করছে (আহ্নিক গতি)। এর ফলে সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়।

জাহাজ চালনায় সমুদ্রস্রোতের গুরুত্ব

স্রোতের অনুকূলে জাহাজ চালিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে গন্তব্য বন্দরে পৌঁছানো যায়। তাই স্বল্পতম সময়ে ও সংক্ষিপ্ত পথে জাহাজ চালাতে নাবিকেরা সমুদ্রস্রোত অনুসরণ করেন। পক্ষান্তরে স্রোতের প্রতিকূলে জাহাজ চালিয়ে যেতে অনেক বেশি সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়। আবার শীতল স্রোতের গতিপথে জাহাজ চালানো বিপজ্জনক। কারণ, শীতল স্রোতের সঙ্গে অনেক হিমশৈল ভেসে আসে। এ প্রকার হিমশৈলের সঙ্গে আঘাত লাগলে জাহাজের ক্ষতি হয় এবং জাহাজ ডুবে যায়। টাইটানিক জাহাজ এভাবেই আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে গিয়েছিল।

সমুদ্রবন্দরের জন্য সমুদ্রস্রোতের গুরুত্ব

মধ্য অক্ষাংশ ও উচ্চ অক্ষাংশের সমুদ্রের পানি শীতকালে জমে যায়। ফলে তখন ঐ সব সাগরের ওপর দিয়ে শীতকালে বাণিজ্য জাহাজ চলাচল করতে পারে না। কিন্তু যেখানে উষ্ণ স্রোত প্রবাহিত হয়, সেখানে বন্দরগুলো শীতকালে বরফমুক্ত থাকে এবং সারা বছর জাহাজ চলাচল করতে পারে।

হিমপ্রাচীর (Cold Wall)

উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে সুমেরু অঞ্চল থেকে আগত ল্যাব্রাডার স্রোতের শীতল ও গাঢ় সবুজ রঙের জল এবং উপসাগরীয় স্রোতের উষ্ণ ও গাঢ় নীল জল বেশ কিছু দূর পর্যন্ত পাশাপাশি কিন্তু বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়েছে। এই দুই বিপরীতমুখী স্রোতের মাঝে একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা স্পষ্ট দেখা যায়, এই সীমারেখাকে হিমপ্রাচীর বলে। কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত আটলান্টিক মহাসাগরে হিমপ্রাচীরের সীমারেখা বহুদূর পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যায়। বিপরীতমুখী দুই সমুদ্রস্রোতের উষ্ণতার পার্থক্যের জন্য এই অঞ্চলে প্রায়ই ঘন কুয়াশা ও প্রবল ঝড়বৃষ্টি হয়।

উষ্ণস্রোত ও শীতল স্রোতের সংমিশ্রণ

উষ্ণস্রোতের উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র হয়। পক্ষান্তরে শীতল স্রোতের উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শীতল ও শুদ্ধ হয়। এ বিপরীতধর্মী দুই বায়ুর সংমিশ্রণে মিলনস্থলে প্রায়ই কুয়াশা ও ঝড়তুফান লেগে থাকে।

শৈবাল সাগর (Sea Moss)

উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের প্রান্ত দিয়ে বিভিন্ন স্রোত প্রবাহের ফলে পানির মধ্যে কোনো স্রোত থাকে না। স্রোতহীন এই পানিতে ভাসমান আগাছা ও শৈবাল সঞ্চিত হয়। একে শৈবাল সাগর বলে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

বায়ু প্রবাহের প্রভাব

সমুদ্রের ঘূর্ণিঝড়

সমুদ্রের পানিতে তাপের পরিচালনা

সমুদ্রের পানিতে ঘনত্বের তারতম্য

ফ্যাদোমিটার
ব্যারোমিটার
ট্যাকোমিটার
ভিক্টোমিটার
উপকূল হতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা যথাক্রমে ১২ নটিক্যাল মাইল ও ২০০ নটিক্যাল মাইল।
-
-
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...